নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই সহযোগীসহ ভুয়া নিরিক্ষা কর্মকর্তা আটক করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ৪ টায় তাদের গুরুদাসপুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে আটক করে গুরুদাসপুর থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। গুরুদাসপুর পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী ও গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল মতিন দুজনই বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী এসএম ইউনুস আলী (৫৩)। তিনি জেলার লালপুর উপজেলার চক-নাজিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। তার সহযোগী সুমন আলী(৩৩)একই গ্রামের গ্রামের মোকাদ্দেস আলীর ছেলে। অপরজন প্রাইভেটকার চালক শামিম পারভেজ (রবি) রাজশাহীর পবা উপজেলার বাঘমারা গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে।
গুরুদাসপুর পৌরসভা ও থানাসুত্রে জানাগেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালকের স্বাক্ষর ও স্বারক জালিয়াতি করে ২২ আগষ্ট গুরুদাসপুর পৌরসভার নথিপত্র নিরীক্ষার জন্য অফিস আদেশ(পত্র)পাঠানো হয়। ওই আদেশের আলোকে নিজেকে মন্ত্রনালয়ের নিরীক্ষা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুর পৌরসভায় ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে আসেন এস এম ইউনুস আলী।
পরদিন রবিবার থেকে অডিট কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। কিন্তু গত বুধবার তার আচরন,কথাবার্তা ও কার্যক্রমে অসঙ্গতি দেখে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক কামাল আনোয়ারকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান তার দপ্তর থেকে কোন নিরীক্ষা টিম পাঠানো হয়নি এবং তিনি এ সংক্রান্ত কোন পত্র প্রেরণ করেননি। বিষয়টি প্রতারনা নিশ্চিত হয়ে ওই ভুয়া নিরীক্ষা কর্মকর্তাসহ তার দুই সহযোগীকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে গুরুদাসপুর থানায় হস্তান্তর করে পৌর কতৃপক্ষ।
ভুয়া নিরীক্ষা কর্মকর্তা এসএম ইউনুস আলী জানান, তিনি পুর্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত থেকে গত বছর আগষ্ট মাসে সেচ্ছায় অবসর নেন। অবসওে থেকে বাড়তি উপার্জনের আশায় তিনি প্রতারনার পথ বেছে নেন বলেও জানান। এ কাজের জন্য ঢাকার কল্যানপুর থেকে দৈনিক ২ হাজার ৫০০ টাকা চুক্তিতে প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ ৩২-২২৫৩) ভাড়া করেন। অপর সহযোগী সুমন আলী তার গ্রামের ও আত্মিয়। তাকেও মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দিয়ে এ কাজে যুক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অডিট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামাল আনোয়ার জানান, তার দপ্তর থেকে কোন নিরীক্ষা টিম পাঠানো হয়নি এবং তিনি এ সংক্রান্ত কোন পত্র প্রেরণ করেননি বলে জানান মেয়র শাহনেওয়াজ আলী নিশ্চিত করেছেন।
গুরুদাসপুর পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী জানান, নিরীক্ষা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি গুরুদাসপুর পৌরসভায় আসেন। হাত খরচের জন্য ১০ হাজার টাকাসহ বিশেষ আপ্যায়ন করা হচ্ছিলো ওই কর্মকর্তাদের। পরে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন তারা। তার কথা বার্তা ও কার্যক্রম অসংলগ্ন মনে হলে যাচাই বাছাই করতে গিয়ে ভুয়া প্রমান পেয়ে তাকেসহ তার দলকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল মতিন বলেন,গ্রেফতার ওই সাবেক কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় প্রতারনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের ব্যবহৃত সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ ৩২-২২৫৩), ১০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। পৌর কতৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ৮:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
gurudaspurbarta.com | MD. Faruk Hossain
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ||
| ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১ | |
| ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ |
| ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ |
| ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | |||