নৌকা ভ্রমনের নামে অর্ধালুঙ্গ ও কুরুচিপুর্ন অঙ্গভঙ্গি নেশায় আসক্ত ও নর্তকি নিয়ে নাচানাচি এরা কাদের সন্তান?
ঘড়ির কাটা ১২ টা ছুঁই ছঁই। একটা ফোন আসলো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসলো কাকা থানা পুলিশের নাম্বার আছে? প্রশ্ন করলাম কেন? উত্তরে বললো আমার বাবা হার্টের রোগী,মা অসুস্থ্য। বাড়ির পাশে বিকট শব্দে বক্স বাজাচ্ছে। বক্সেও বিকট শব্দে তাঁরা দুজনই আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। যারা গভীর রাতে উচ্চ শব্দের বক্স বাজাচ্ছে তারা আমাদের সমাজেরই বাসিন্দা। কোন না কোন পরিবারের সন্তান। গভীর রাতে অন্যের ঘুম নষ্ট করে, অন্যদের বিরক্ত করে নিজেদের আনন্দ করা কতটুকু শোভন এই কথাটা ওই বক্স বাজানো সন্তানদের শেখানো বা বোঝানোর দায়িত্ব কার?
ঈদের পরদিন পাড়ার উঠতি বয়সি ২০/২৫ জন তরণ নৌকা ভ্রমনে যাবে। চাঁদা জনপ্রতি ২ হাজার টাকা। সাথে হাত খরচের বাড়তি আরও কিছু টাকা। নৌকায় ১০টা বড় বড় বক্স,আর জনপ্রতি ১ লিটার মদ। মাঝরাত অবধি গানের তালে তালে অঙ্গভঙ্গি করে কোমর দুলিয়ে নেশায় বুদ হয়ে বাড়ি ফেরার পর ওই সন্তানদের বাবা-মা’র একবারও অনুশোচনা হয়নি। সন্তান নেশাগ্রস্থ হয়ে কেন বাড়ি ফিরলো? নৌকা ভ্রমনের নামে উশৃংঙ্খলতার উপকারিতা কি? এতোগুলো টাকা কেন লাগবে?

এক চা দোকানী আমার চেনা-জানা। তাঁর ১৩/১৪ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান আছে। সে নামক্যা ওয়াস্তে লেখা পড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে এসে বাবার দোকানে সহযোগীতা করে। একদিন আমার নজরে এলো ওই উঠতি বয়সি ছেলের উদ্ভট কাটিং চুল ছাটা,তাকে ২ ধরনের রং লাগানো। একটা হাফপ্যান্ট পড়েছে তাতে প্রজননতন্ত্রের অস্তিত্ব দৃশ্যমান। এমন চুলছাঁট,রংকরণ ও হাফপ্যান্ট পরতে দেখে ওই বাবা কিংবা ছেলের বিন্দুমাত্র সংকোচ,কিংবা লজ্জাবোধ আমার চোখে পরেনি। ছেলের এমন অবয়ব দেখে আমি লজ্জিত। বাবা হিসাবে আপনার লজ্জা করছে না? আমার বলাতেও তাদের চোখেমুখে লজ্জা,সংকোচের লেশ দেখা যায়নি।
আমার এক ফেসবুক বন্ধু সম্প্রতি তাঁর ফেসবুকে স্টিকার কমেন্স পোষ্ট করেছেন। তাঁর পোষ্টের ধরন এমন-“বাপে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আর ছেলে চলনবিলে নৌকা ভ্রমনে গিয়ে গানের তালে তালে জাঙিয়া পরে ড্যান্স দিচ্ছে-আইছি ল্যাংটা যাবো ল্যাংটা।”তার পোষ্টের সারকথা হলো বর্তমান সময়ে সন্তানকে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরী। সমাজের ২/৪টা বখাটে ছেলেই সভ্য সমাজের ঘুম নষ্টের জন্য যথেষ্ট।
সম্প্রতি ঈদকেন্দ্রীক চলনবিলে বিনোদনপ্রেমীদের উপচেপরা ভীড়। কর্মমুখর জীবনে প্রশান্তির পরশ পেতে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে গিয়েছেন চলনবিলের বিলশা পয়েন্টে সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এর মধ্যে অনেকের আদরের দুলাল অতিআদুরে সন্তান নৌকায় নর্তকী নিয়ে ডজনখানেক উচ্চমাত্রার সাউন্ড সিন্টেমসমেত যন্ত্রের তালে তালে কোমর দুলাচ্ছেন। এতেও আমার আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়।
আপত্তি ওইখানে,আপনার আদরের সন্তান আন্ডার অ্যয়ার পরে,আমার আপনার স্ত্রী-মেয়েদের দিকে কুরুচিপুর্ন অঙ্গভঙ্গিতে মত্ত। আপত্তিকর ভাষায়,কুরুচিপুর্ন শব্দে বিপরিত লিঙ্গের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে অবিরত। রাত গভীর হলেই আপনার নৌকা ভ্রমনে যাওয়া সন্তান বিনোদনের নামে নেয়া নর্তকীর সাথে মেলামেশা শেষে মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফিরছেন। একবারের জন্য কি খোঁজ নিয়েছেন আপনার সন্তান বিনোদনের নামে অর্ধালুঙ্গ হয়ে কি করছে? অন্যের বিনোদন নষ্ট করে জেল-হাজতে যাওয়ার কাজ করছে নাতো?
শেষকথা,প্রতিটি সন্তান তার বাবা-মার কাছে রাজকন্যা-রাজকুমার। কিন্তু সেই আদরের সন্তান কোথায় কার সাথে মিলছে,সকাল বিকাল পড়ার টেবিলে বসছে কিনা,রাত অবধি বাসায় না ফিরে কাদের সংস্পর্ষে সময় পার করছে। সে কি নেশায় আশক্ত?সেকি হতাশায় ভুগছে? এগুলো দেখতে হবে বাবা মা কেই।
সন্তানরা বখে গেলে,অথবা তাঁর বখে যাওয়া রোধে বাবা মা’র পাশাপাশি তার স্বজন,সমাজপতি,জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক ব্যক্তি,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী,রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেউই দায়িত্ব এরিয়ে যেতে পারেনা। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করলেই কেবল সামাজিক অবক্ষয়রোধ সম্ভব।
লেখক-
সহকারী অধ্যাপক,ইতিহাস বিভাগ ও
সম্পাদক এবং কলামিষ্ট গুরুদাসপুর বার্তা।