নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে চাত্রাগাড়ী নামে একটি সরকারি খাস পুকুর অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। পুকুরটি ১০ বছর ধরে সরকারীভাবে লীজ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় লভ্যাংশ দিয়ে মন্দির উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করে আসছিল।
স্থানীয়সুত্রে জানাগেছে,মন্দির সংলগ্ন এই খাস পুকুরটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রম ও মন্দিরের ব্যয় নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। পুকুরে মাছ চাষের লভ্যাংশে মন্দিরের পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। সর্বশেষ দুই বছরের জন্য পুকুরটি মন্দির কর্তৃপক্ষ লীজ দেয় স্থানীয় একজন মৎস্য চাষীকে। বর্তমানে আদালতে চলমান মামলার কারনে ওই পুকুর লীজ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় ওয়ার্ড আ.লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক সরকারিভাবে লীজ না নিয়েই পুকুরটি দখলে রেখেছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে সরকারীভাবে কাউকে লিজ প্রদান করা হয়নি। তাহলে ওই নেতা কিভাবে পুকুর দখলে রেখেছেন?
মন্দির কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ প্রামাণিক বলেন, এই পুকুরটি আমাদের মন্দিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বছরের পর বছর বছর ধরে আমরা নিয়ম মেনে সরকার থেকে লীজ নিয়ে ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ করে এক পক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই লীজ মালিকানা দাবী করছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবী করছি।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক বলেন, পুকুরটি প্রথমে আমি মন্দির কমিটির কাছ থেকে লীজ নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে ওই গ্রামের স্থানীয় আলমগীর নামে একজনের কাছ থেকে লীজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। তবে সরকারি পুকুর লীজ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আলমগীর হোসেন বলেন, আমি কাউকে পুকুর লীজ দেইনি।
সিংড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষই আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি এই পুকুর সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আদালত থেকে মিামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষই দখলে যেতে পারবে না।