ঢাকা
০৭ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

দেশসেরা সাতারু হতে চায় গুরুদাসপুরের জান্নাতি

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫   ১১১ বার পঠিত
দেশসেরা সাতারু হতে চায় গুরুদাসপুরের জান্নাতি

সুইমিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেধাবী সম্ভাবনাময় ও সুবিধাবঞ্চিত সাঁতারুদের খুঁজতে দেশব্যাপী শুরু হয় সুইমার ট্যালেন্ট হান্ট। কয়েকধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উচ্চতর প্রশিক্ষনের ডাক পেয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতি। জান্নাতি নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসদরের খলিফাপাড়া মহল্লার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
শুক্রবার রাতে (২১ নভেম্বর) কথা হয় অনাদরে বেড়ে ওঠা জান্নাতির সাথে। সে গুরুদাসপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৭০ জন প্রতিযোগী নিয়ে এক মাসের সাঁতার প্রশিক্ষন নিয়েছিলো জান্নাতি। সেখান থেকে ৫ জনকে ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনের জন্য মনোনীত করা হয়। উচ্চতর প্রশিক্ষনে সুযোগ পাওয়া ২৩ শিশু সাঁতারুর একজন জান্নাতি।
জান্নাতি বলেন,ছোটবেলা থেকেই বাড়ির পাশের নন্দকুজা নদীতে সাঁতার কাটতাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে ফুটবল,নৃত্যে পদক পেয়েছি। নৌবাহিনীর সাঁতারের কোচ প্রতিবেশী আতিক ভাই আমাকে সাঁতারের জন্য উৎসাহ দেন। তার উৎসাহে উপজেলায় প্রশিক্ষন গ্রহণ করে বর্তমানে এ পর্যন্ত অগ্রগতি। সবার সহযোগীতায় আমি দেশ সেরা সাতারু হতে চাই।
জান্নাতির মা ঝর্না বেগম বলেন, “জান্নাতির বাবা দিনমুজুর। বাড়ির ৫ শতক জায়গা আমাদের সম্বল। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে জান্নাতি সবার ছোট। অভাবের সংসারে মেয়ের সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। সবার সহযোগীতা পেলে তার মেয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
গুরুদাসপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লিপি রানী সরকার বলেন,জান্নাতির সাফল্যে আমরা গর্বিত। দোয়া করি ও সেরা সাতারু হয়ে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনুক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, জান্নাতির মতো অনেক প্রতিভাবান লুকিয়ে আছে। প্রতিভাবান খুঁজে বের করে তাদের প্রতিভার বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতা করছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধিত করা হবে।
উল্লেখ্য-১৬ নভেম্বর সুইমিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং নৌবাহিনীর সহায়তায় আয়োজিত ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশের সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার লাভ করে উচ্চতর প্রশিক্ষনের ডাক পেয়েছে জান্নাতি। এর আগে সুইমার ট্যালেন্ট হান্টের প্রথম পর্বে দেশের ২০৮৯ জন সাঁতারু থেকে প্রাথমিকভাবে ৬৩০ জন সাঁতারু বাছাই করা হয়। তারা ছয়টি গ্রুপে ভাগ করে গত ১৫ জুলাই থেকে ০৫ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে বাছাই অনুশীলন করে। অনুশীলনের মাধ্যমে ৭০ জনকে (৪৭ জন বালক ও ২৩ জন বালিকা) চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়।
চূড়ান্ত বাছাইকৃতরা আগামী বছর ২ বছর মেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সাঁতারুগণ পরবর্তীতে সরাসরি বিভিন্ন বাহিনী/সংস্থায় চাকরির সুযোগ লাভ করবে।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa