একবস্তা সারের জন্য বিসিআইসি সারের বিক্রয় প্রতিনিধি মেসার্স প্রগতি ভান্ডারের গুদাম ঘরের সামনে ভোর থেকেই কৃষান-কৃষানীর দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে মিলছে এক বস্তা সার। বেলা তখন সাড়ে ১০টা। তখনও লাইনে অন্তত দুইশত কৃষান-কৃষানী। জানিয়ে দেয়া হলো তাদের চাহিদার ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সার শেষ। কৃষকদের চোখে মুখে তখন ক্ষোভ ও হতাশার ছাপ। চলতি রবি ও বোরো মৌসুমে কাঙ্খিত সার নিয়ে সঙ্কিত কৃষক। অথচ উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে সারের কোন সংকট নেই।
বলছিলাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাষীদের কথা। যারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সবার মুখে অন্ন যোগান সেই কৃষকদের হতাশার কথা। সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সরোজমিনে গুরুদাসপুর পৌরশহরের চাঁচকৈড় বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার সামছুল হক শেখের মেসার্স প্রগতী ভান্ডারের সামনে অপেক্ষমান কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রবি ও বোরো মৌসুমে সরিষা,রসুন,পেয়াজ, ভুট্টা,বোরো ধানসহ রবিশস্যের জমি চাষাবাদ শুরু হলেও চাহিদা মতো মিলছে না সার। দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে কেউ সার পেলেও অনেক কৃষক খালি হাতে বাড়ি ফেরেন বলে জানান। সার পেতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কেন এমন প্রশ্ন তাদের। সময়মতো প্রয়োজন অনুসারে সার না পেলে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে জানান তারা।


পিপলা গ্রামের কৃষানী মুক্তিয়ারা বেগম জানালেন, সারের জন্য এসেছিলাম, ডিলার বলছেন সার নেই একারনে খালি হাতে বাড়ি ফিরছি। কবে পাবো তার নিশ্চয়তাও নাই। তিনি ৭ বিঘা জমিতে শরিষা,রসুন ও ধানের চাষ করবেন। জমি প্রস্তত হলেও শুধু সার না পাওয়ার কারনে বীজ বপন করতে পারছেন না। তিনি সময়মতো ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত।
তার মতো একই গ্রামের কৃষক মোহসিন,শ্রীপুর গ্রামের কাওছার জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলেনি সার। তাদের এখন সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলার বলছেন,ইউরিয়া ছাড়া কোন সার নেই। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হবে।
বিসিআইস সার ডিলার মো.সামছুল হক শেখের মেসার্স প্রগতী ভান্ডারের ম্যানেজার বাচ্চু বলেন, তারা চলতি মাসে ২২৮ বস্তা টিএসপি, ১৭০ বস্তা ডিএপি ২৮০ বস্তা পটাশ সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। কৃষকদের চাহিদা থাকায় আজই তা শেষ হয়েছে। নভেম্বর মাসের ৫ তারিখের মধ্যে পুনরায় সার প্রাপ্তির কথা রয়েছে। পেতে তা সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন, সারের কোন সংকট নেই। চলতি অক্টোবর মাসে ডিএপি ১ হাজার ১০০ মে.টন, ইউরিয়া ১ হাজার ২২০ মে.টন, টিএসপি ৫৫০, এমওপি সার ৪৭৫ মে.টন সার ২০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিলি করা হয়েছে। ডিলারদের ডিও করতে বলা হয়েছে ,আশা করা যাচ্ছে এক সপ্তাহে মধ্যে কৃষকরা সার পাবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার নিয়ে কৃষকদের হতাশার কোন কারন নেই। নাটোর বাফার গোডাউনে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। সার বিতরণে কোন ডিলার অনিয়ম করলে বা কৃষকদের হয়রানি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।