ঢাকা
০৭ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

নিবন্ধনহীন নৌযান, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কীভাবে চলছে?

সম্পাদকীয়
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২   ১৬৬ বার পঠিত
নিবন্ধনহীন নৌযান, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কীভাবে চলছে?

দেশের নৌপথগুলো মানুষের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুটা সরব হলেও কিছুদিন পর সেসব তৎপরতা আর লক্ষ করা যায় না।

বস্তুত কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সারা দেশে চলছে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌযান। বিষয়টি উদ্বেগজনক। দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ কোনোটিই নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে।

এমনকি এ ধরনের কতসংখ্যক নৌযান চলছে, এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দেশে ১৬ অশ্বশক্তির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিবন্ধন ছাড়া চলাচল নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, জনবল সংকট ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে এসব নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে পারছে না নৌপরিবহণ অধিদপ্তর। এ কারণে ওইসব নৌযানের রুট পারমিটও দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অথচ স্থানীয় রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব ইঞ্জিনচালিত নৌযান অবৈধভাবে সারা দেশে চলাচল করছে। কয়েকদিন আগে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে যে ট্রলারটি ডুবেছে, সেটিরও নিবন্ধন ছিল না। ওই ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বহু ইঞ্জিনচালিত নৌযানেরও নিবন্ধন নেই।

এসব নৌযানে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই। নিবন্ধন ও রুট পারমিট না থাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযানে প্রশিক্ষিত চালক রাখার বাধ্যবাধকতাও নেই। এসব নৌযানের ফিটনেসও পরীক্ষা করা হয় না। প্রতিটি নৌযানে কতজন যাত্রী বহন করা যাবে, নেই সেই নির্দেশনাও। ফলে প্রায়ই এ ধরনের ছোট নৌযানডুবিতে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। নৌযানের নিবন্ধন না থাকায় এর দায়দায়িত্ব নিতে নারাজ স্থানীয় প্রশাসন ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়।

কোনো দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন হলো, তদন্ত কমিটি গঠন করা ছাড়া কর্তৃপক্ষের কি আর কোনো দায় নেই? এ সেক্টরে জনবল সংকটের বিষয়টি বহু পুরোনো। এ সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে তা জিইয়ে রেখে কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে চায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুঃখজনক হলো, আলোচিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কর্তৃপক্ষকে জোরালো কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এতে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একের পর এক নৌদুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাবে, এটাই কি তাদের নিয়তি? নৌপথে বছরের পর বছর নৈরাজ্য চলতে থাকবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগেই স্থানীয় প্রভাবশালীসহ দালাল শ্রেণির খপ্পরে পড়ে দেশের নৌপথের যাত্রীদের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়ে উঠছে। নৌপথের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa