জাতীয় গনমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় নাটোরের গুরুদাসপুরের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ জাগ গান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে হারিকেন ও কুপি বাতির আলোয় উপজেলার খুবজীপুর মরহুম অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ কমপ্লেক্স চত্তরে ওই গানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুল প্রগতী সংঘ।
আয়োজকসুত্রে জানাগেছে,বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া,সাহিত্য সংস্কৃতি অনুসন্ধান ও সংরক্ষনে জাতীয় গনমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় সকালে গ্রামীণ লাঠি খেলা ও রাতে জাগ গানের আসর বসে। এক সময় রাত জেগে এ গান গাওয়া ও শোনা হতো বলে এ গানের নামকরন হয় জাগ গান। জনপ্রিয় গ্রামীণ এ গান শুনতে নানা বয়সী মানুষ ভীড় করেন।
নজরুল প্রগতী সংঘের সভাপতি আনিসুজ্জামান সরদারের সভাপতিত্বে জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো: মারুফ নেওয়াজ,সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ ইব্রাহিম মোল্লা সুমন, ডক্টর আমিরুল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম,নজরুল প্রগতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, মোহসীন আলী,জাতীয় এ্যাথলেট-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কালের বিবর্তনে হারাতে বসা গুরুদাসপুর অঞ্চলের ১৫ জন শিল্পী গানের আসরে অংশ নেন। এ গান ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। গ্রামীন ঘর গারস্থ্য,কৃষি ও কৃষকের কৃষিকাজ,গবাদী পশু এ গানের প্রধান উপাদান।
শিল্পী আসালত ফকির,আব্দুল কাদের বলেন, এ গান তাঁদের পূর্ব-পুরুষের জনপ্রিয় গান। গ্রামের বিত্ত্বশালীর উঠোনে রাত জেগে শিল্পীরা গান গেয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে তারাও আনন্দ পেতেন। হারানো এ গানের আসর পুনরুদ্ধারে জাতীয় গনমাধ্যম ইন্সটিটিউটের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান তারা।
জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো: মারুফ নেওয়াজ বলেন,কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া,সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিক। মুলতঃ গ্রামীণ ক্রীড়া ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে তাঁর এ জনপদে এসেছেন। হারানো ক্রীড়া সংস্কৃতি ফেরাতে পারলে মাদক,জঙ্গিবাদ,অপসংস্কৃতি,মোবাইল আসক্তি থেকে তরুন-যুব সমাজকে রক্ষা সম্ভব।