ঢাকা
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
স্কুলের ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজের পর তদন্ত শুরু গুরুদাসপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ভ্যাপসা গরম-তীব্র লোডসেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার দাম ও কদর গুরুদাসপুরে প্রতিশ্রুতির আবর্তে কাঁচারাস্তা পাকা হয়নি শতবর্ষেও গুরুদাসপুরে বাস-নছিমন সংঘর্ষে সহদরসহ নিহত-৩ আহত ৪ গুরুদাসপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারনা ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ গুরুদাসপুরে স্কুল মাঠে কাদা-জল বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সমাবেশ বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর চলনবিলে বাড়ছে ডিঙি নৌকার চাহিদা সিন্ডিকেটের কবজায় পাটের বাজার, দাম বিপর্যয়ে চাষীদের ক্ষোভ শঙ্কিত জীবন-অনিরাপদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
Advertise with us

স্কুলের ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজের পর তদন্ত শুরু

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৩ বার পঠিত
স্কুলের ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজের পর তদন্ত শুরু

প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন  ছবি: -প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে বিক্রি করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ।
জানাগেছে,গত সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড.আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলামকে। অন্য সদস্যরা হলেন- মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া, বিএডিসি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান,স্থানীয় ইউপি চেযারম্যান মাহবুবুর রহমান।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,তিন বছর আগে জাইকা’র অর্থায়নে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই ভবনটি মাত্র ১ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। টেন্ডার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহার উপযোগী ভবনটি ভেঙে ফেলায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে ভবন ভেঙ্গে ফেলা ও বিক্রির বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এল উপজেলা প্রশাসন ৩০ আগষ্ট ২৪ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে প্রধান শিক্ষককে কারন দর্শনোর নোটিশ প্রান করা হয়। তার জবাবের নথি উর্ধ্বেতন কতৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে বলে জানান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যালয়ে একতলা দুইকক্ষ বিশিষ্ট ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর জুন-জুলাই মাসে ভেঙে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। যেটি উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) ও জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। এদিকে ভেঙে ফেলা ভবনের জায়গাতেই ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মানের কথা নতুন চারতলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন। জায়গা সসংকটের কারন দেখিয়ে স্কুলের ওই ভবনসহ পুরোনো আধাপাকা আরো একটি ভবন ভেঙে ফেলা হয় বলে জানান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন,গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি মঙলবার থেকে শুরু করেছেন। তদন্তে যদি কোন অনিয়মের প্রমান মেলে সেক্ষেত্রে কমিটি আইনগত ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তদন্তে প্রধান শিক্ষক দোষী প্রমানিত হলে তিনি তার বিচারও দাবী করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া পর নতুন ভবন নির্মানের প্রয়োজনে জায়গার সংকট থাকায় আগের একতলা ভবন ও পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলে ছিলেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন রয়েছে বলেও দাবি করে তিনি আরো জানান উপজেলা প্রশাসন থেকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছিলো। তিনি তার জবাব দিয়েছেন। তদন্ত কাজ চলমান। তিনি আশা করছেন নির্দোশ প্রমানিত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক নতুন ভবনটি ভেঙে বিক্রি করেছেন। ভবন ভাঙার আগে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেয়া হয়েছে। ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গগঠন করা হয়েছে ততাররা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটটনা জানা যাবে। নিয়ম—নীতির ব্যত্যয় ঘটে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa