বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারনা করে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ছবি: -প্রতিনিধি
মামুন ও গোলাপ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে চারজনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর আশ্বাসে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ৩ বছর আগে ধার-দেনা করে দেয়া টাকা ফেরৎ চাইতে গিয়ে উল্টো তারাই অপহরণ মামলা শিকার দাবী করেছেন চার পরিবারের সমস্যরা। অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীরা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সকাল ১১ টায় খুবজীপুর-বিলশা সড়কের বিলশা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কাজলী বেগম,পারভীন খাতুন,হাসিনা বেগম,ফরিদা বেগম ও চান্দু প্রামানিক কান্নাজরিত কন্ঠে ঘটনার বর্ননা দেন।
তারা জানান, ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর বিলশা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মামুন ও জয়নাল আলীর ছেলে গোলাপ মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে একই গ্রামের রেজাউল করিম রকি,সুরুজ আলী,সুমন ও লালু ফকিরের নিকট থেকে ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। যার লিখিত রাজস্ব স্ট্যাম্প ও সাক্ষ্য প্রমান আছে। বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে টাকা ফিরিয়ে দেবার কথা থাকলেও টাকা চাইলে ভয়-ভীতি ও হুমকির সম্মুখিন হন বলেও জানান তারা। এ নিয়ে একাধিক বার গ্রাম্য বৈঠক হলেও তারা টাকা ফিরিয়ে দেন নি। নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান,সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। কিন্তু প্রতারকরা সময় নিয়েও সে টাকা ফিরিয়ে দেননি। টাকা ফিরে পেতে নাটোর আদালতেও মামলা করেছেন বলেও জানান ক্ষতিগ্রস্থরা।
টাকা দিয়ে সর্বশান্ত ও মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে দাবী করে পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ আগষ্ট মঙ্গলবার তাদের দায়ের করা মামলার নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ওই প্রতারকরা মিথ্যা অপহরনের নাটক সাজিয়ে উল্টো তাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। সে মামলায় দুজন জেল হাজতে রয়েছে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও টাকা ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন টাকা আত্মসাতের বিষয় অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন,ওই চারজন বৈদেশীক কর্মসংস্থান অফিসের মাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। অফিসে টাকা জমার সময় তিনি ও শাওন আহম্মেদ গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। প্রতারনা বা কোন টাকা আত্মসাৎ বিষয়টি মিথ্যা।
খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন জানান, বিষয়টি নিয়ে তার মাধ্যমে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্তরা টাকা ফিরিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ক্ষতিগ্রস্থরা টাকা পেয়েছে কি-না সেটা তার জানা নাই।