ঢাকা
২৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
তথ্যবিভ্রাট সংবাদের প্রতিবাদে ডা.জাহেদুলের সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নেতাকে দায়মুক্ত করতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে আগুনে পুড়লো পেট্রোল পাম্প,দোকান ও বসতবাড়ি সংগঠন গতিশীল না থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয় কঠিন হবে-সোহাগ গুরুদাসপুর পৌরসভার ৪৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা “দল সুসংঘটিত থাকলে বারবার সরকার ক্ষমতায় আসবে”-সোহাগ ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে তরুণদের ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের হতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলো ছড়াচ্ছে ‘আল মদিনা’ পাঠাগার গুরুদাসপুরে মসজিদের জায়গা দখলে রেখেছেন আইনজীবী মুসল্লীদের দুর্ভোগ
Advertise with us

আলাউদ্দিন প্রামানিক ছিলেন আলোর বাতিঘর

গুরুদাসপুর বার্তা ডেস্ক
সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩   ৫৩৪ বার পঠিত
আলাউদ্দিন প্রামানিক ছিলেন আলোর বাতিঘর

মরহুম আলাউদ্দীন প্রামানিক ছিলেন একজন সাদামনের মানুষ। কিন্তু তিনি ছিলেন সাধারনে অসাধারণ। স্বল্প শিক্ষিত হলেও তিনি ছিলেন আলোর বাতিঘর। চাঁচকৈড় বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বড় মনের মানুষ আলাউদ্দিন প্রামানিক ২০১৫ সালের আজকের এই দিনে ৫৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আজ ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী তাঁর। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্বরণ করছি এই আলোর বাতিঘরকে।

নাটোরের গুরুদাসপুর তথা চলনবিলাঞ্চলের যে ক’জন ক্ষনজন্মা প্রথিতযথা মহাপ্রাণ ব্যাক্তিত্বের জন্ম হয়েছিলো তন্মধ্যে মরহুম শরিফ উদ্দীন চেয়ারম্যান অন্যতম। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্র নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শরিফ উদ্দীন বৃহত্তর বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজ গ্রাম যোগেন্দ্র নগরে পরিষদ কার্যালয় (বোর্ড ঘর) প্রতিষ্টা করেন। তাঁর চার ছেলে নয় মেয়ের মধ্যে আলাউদ্দীন প্রামানিক ছিলেন তৃতীয়।

বিশিষ্ট সমাজসেবক,রাজনীতিবিদ,ব্যবসায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক আলাউদ্দীন প্রামানিক বাবার আদর্শে আদর্শিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। তাঁর বদান্যতায় সমাজ,রাজনীতি,ব্যবসাক্ষেত্রে অনেকে প্রতিষ্ঠিত হলেও তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালের মানুষ।

ব্যাক্তি জীবনে দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন মরহুম আলাউদ্দীন প্রামানিক। চাঁচকেড় বাজারে ধান চালের ব্যবসার মাধ্যমে ব্যবসায়ীক জীবনে গোড়া পত্তন করেন তিনি। পরবর্তীতে ব্যবসার ধরন পাল্টে চাঁচকেড় বাজারের সিএম সপিং কমপ্লেক্সে ‘মুন টেলিকম’ নামের যুগোপযোগী মোবাইল ফোন ও এক্সোসরিজের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। যেটি বর্তমানে তাঁর বড় ছেলে ফারুক হোসেন দেখা-শোনা করছেন।

মরহুম আলাউদ্দীন প্রামানিক বেশি শিক্ষিত ছিলেন না। তবে তিনি জ্ঞানী ও গুনীর কদর করতেন। তিনি উন্নত চিন্তা ও সাহিত্যমনা মানুষ ছিলেন। এক সময় চাঁচকৈড় গুরুদাসপুরে সাহিত্য চর্চা,নাটক,সংস্কৃতি চর্চা হতো বহুলাংশে। কালের বিবর্তে যখন সেসব বিলুপ্তির পথে তখন সাহিত্য চর্চার বিকল্প পন্থা হিসাবে জ্ঞানের আলো ছড়াতে ‘গুরুদাসপুর বার্তা’ নামে সংবাদপত্র প্রতিষ্টা করেন ওই মহান ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত ওই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত গুরুদাসপুর বার্তা জনপ্রিয়,পাঠকপ্রিয় ও জননন্দিত পত্রিকা।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অনেকটা ধুমকেতুর মতো গুরুদাসপুর বার্তা পত্রিকার অবির্ভাব ঘটে গুরুদাসপুরে। সে সময় অনেক জেলা সদরেও ছিলো না কোন সংবাদপত্র। প্রতিষ্টার দু বছর পরে সম্পাদক হিসাবে আমার উপর (সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ) গুরুদায়িত্ব অর্পন করেন তিনি। আমার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি ওই গুরুদাসপুর বার্তার হাত ধরেই। অনেক মহীয়সী,মহিরুহ মানুষ থাকতে কেন আমার মতো অখ্যাত তরুন মানুষকে এমন গুরুদায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো আমার বোধগম্য ছিলো না।

একটা কথা আমার স্পষ্ট মনে পরে পত্রিকার কোন এক প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে তিনি জনসম্মুখে ঘোষনা করেন যতদিন গুরুদাসপুর বার্তা থাকবে আর আল্লাহ আমাকে (সাজেদুর) জীবিত রাখবেন ততদিন আমি যেন গুরুদাসপুর বার্তা সম্পাদনা করি। শুনেছি মৃত্যুর আগে আলাউদ্দীন প্রামানিক তার সন্তানদের ওয়াছিয়ত করে গেছেন তারা যেন সম্পাদক পদে আমাকে বহাল রাখেন। জানিনা আমার মাঝে তিনি এমন কি দেখে ছিলেন। আমিও তাকে দেয়া কথা রেখে গুরুদাসপুর বার্তার সম্পাদক হিসাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে চলেছি। জানিনা তার দেয়া দায়িত্ব কতটা নিষ্টার সাথে পালন করতে পেরেছি।

মরহুম আলাউদ্দীন প্রামানিকের মধ্যে বিচক্ষনতার সাথে বিবাদ মিমাংসা করার মহৎগুন দেখেছি। দেখেছি অসহায় হতদরিদ্রকে সহায়তা করতে। দেখেছি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবলিলায় সম্পদ বিলিয়ে দিতে।

মরহুম আলাউদ্দীন প্রামানিক ছিলেন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিবিদ। তবে দলীয় কোন পদ পদবী না থাকলেও তিনি ছিলেন নেতা তৈরীর কারিগর। তার হাত ধরেই অনেক নেতার জন্ম হয়েছে যারা বর্তমান রাজনৈতিক অঙনের পরিচিত মুখ। তিনি ছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য এম মোজাম্মেল হকের অত্যন্ত অস্থাভাজন। কিন্তু কখনও তাকে দেখিনি রাজনৈতিক পাওয়ারে কাউকে কটু কথা বলতে।

১৯৯৭ সালে এক রাজনৈতিক মোটর সাইকেল শোভাযাত্রায় আলাউদ্দিন প্রামানিক মারাত্বকভাবে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তার বাম পা ভেঙ্গে যায়। অনেক অর্থের বিনিময়ে কিছুটা সুস্থ্য হলেও শেষ জীবন পর্যন্ত তাকে খুঁড়িয়ে চলতে দেখেছি। রাজনীতির কারনে তাঁর এতো বড় ক্ষতি হলেও দল তারপাশে সহযোগীতার হাত না বাড়ালেও কোন দিন দল নিয়ে কটু কথা বলতে শুনিনি তাকে।
আজ(২৫ ডিসেম্বর)মরহুম আলাউদ্দীন প্রমানিকের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১৫ সালের এই দিনে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এহজগতের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। আজকের এই বিশেষক্ষনে তাকে অনেক বেশি মনে পড়ছে। আল্লাহর কাছে অবনত মস্তকে প্রার্থনা তিনি যেন তার জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়ে পরলৌকিক জীবনে বেহেস্ত নসিব করেন (আমিন)।
লেখক-
সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
সম্পাদক,গুরুদাসপুর বার্তা ও
সহকারী অধ্যাপক,ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজ।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa