বিতর্কিত কর্মকান্ড তীব্র সমালোচনা ও জনঅসন্তোষের সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসমাউল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নাটোর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক দুলাল হোসেন। বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাঁকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়।

শনিবার (২০সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে গুরুদাসপুরের ওসি আসমাউল হককে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখায় সংযুক্ত করা হয়। একই আদেশে নাটোর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক দুলাল হোসেনকে গুরুদাসপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে সদ্য সমাপ্ত জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চলনবিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা নিয়ে পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তাগন,বিশিষ্টজন ও সংবাদ কর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন। ওই সভায় ওসি আসমাউলের বিতর্কিত কর্মকান্ড,অসৌজন্য আচরণ,প্রশাসনের সাথে তাঁর দুরত্বের বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরদিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় ওই ওসির বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ সদস্যরা থানায় গিয়ে ওসির সাক্ষাৎ না পাওয়া, সেবা পেতে হয়রানি, অধিকাংশ ভুক্তভোগীদের থানার ফটক পেরুতে না পারা,মুঠোফোন রিসিভ না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এলাকায় কৃষকদের সেচযন্ত্রের ট্রান্সফরমার, অটোভ্যান চুরি, মাদকের বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির নিয়েও সমালোচিত হন তিনি।
সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, তিনিও ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য একাধিকবার পুলিশ সহায়তা চেয়েও পাননি। বড় ধরনের অনুষ্ঠান ও অভিযানে থানার প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও তিনি স্পষ্ট করেন।
তবে ওসি আসমাউল হক অভিযোগগুলো যথার্থ নয় দাবি করে বলেন,পুলিশের ভাবমুর্তি ফেরাতে তিনি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।
১৯ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা সভায় অসন্তোষ বিতর্কিত ওসি আসমাউলের প্রত্যাহার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচিত সমালোচিত হয়। এর পরদিনই পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বদলির আদেশ জারি করা হয়। পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।