ঢাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী,গনির রাজ্যে অনিয়মই নিয়ম গুরুদাসপুরে দেড় শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রাদান করলো রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশন ভাতিজার জায়গা চাচার জবরদখল মুক্ত করতে গিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ স্কুলের ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজের পর তদন্ত শুরু গুরুদাসপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ভ্যাপসা গরম-তীব্র লোডসেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার দাম ও কদর গুরুদাসপুরে প্রতিশ্রুতির আবর্তে কাঁচারাস্তা পাকা হয়নি শতবর্ষেও গুরুদাসপুরে বাস-নছিমন সংঘর্ষে সহদরসহ নিহত-৩ আহত ৪ গুরুদাসপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারনা ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ গুরুদাসপুরে স্কুল মাঠে কাদা-জল বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সমাবেশ
Advertise with us

গুরুদাসপুরের ঝাউপাড়া দাখিল মাদরাসা

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী,গনির রাজ্যে অনিয়মই নিয়ম

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি..
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ২৮২ বার পঠিত
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী,গনির রাজ্যে অনিয়মই নিয়ম

ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি  ছবি: -প্রতিনিধি

মাদ্রাসার একটি সেমিপাকাসহ তিনটি টনসেড ঘর বিক্রি,নিয়োগ বানিজ্য,ফসলী জমি, লিচু বাগান কট/লিজ,শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরন, টিউশন ফি’র টাকা বন্টন না করা,শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলের ফাইল আটকে রাখা,চেক জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারিগর আব্দুল গনি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সবকিছুই করেছেন নিজের খেয়াল-খুশিতে। গনির রাজ্যে অনিয়মই যেন নিয়ম। আব্দুল গনি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাউপাড়া দাখিল ভারপ্রাপ্ত সুপার।
জানাগেছে,গেল ২২ জুলাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির বিধি বর্হিভুত কর্মকান্ড অতিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফাহমিদা আফরোজ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেল মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফাহমিদা আফরোজ। এসময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে সরোজমিনে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,তিনি জানুয়ারী মাসে প্রতিষ্ঠানের ৯০ ফিট সেমিপাকা ভবন,৪৫ ফিট টিনসেড,অন্য একটি ভবনের একাংশ (১০ ফিট) ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ভবন ভাঙ্গা ও বিক্রির বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষে অনুমোদন নেয়া হয়নি। তবে সুপার আব্দুল গনি পুর্ববর্তী কমিটির রেজুলেশান আছে দাবী করলেও সেটি দেখাতে পারেননি।
মাদ্রাসার ৩৭ শতাংশ ফসলী জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কট রাখা,সোয়া ৮ শতাংশ লিচু বাগান ৩৮ হাজার টাকায় লিজ দেয়া, মাঠের আরো ৮ শতাংশ ও সাড়ে ১১ শতাংশ জমি লিজ রাখলেও সে টাকার হিসাব দেখাতে পারেননি।


সুত্র আরো বলছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির নিয়োগ ত্রুটিপুর্ন। ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই দেয়া নিয়োগপত্রে তাকে সহসুপার/সিনিয়র মৌলবী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একক ব্যক্তিকে একসাথে দুইপদে নিয়োগ দেবার বিধান নেই। শিক্ষা জীবনে একাধীন তৃতীয় বিভাগ থাকলে নিয়োগ অযোগ্যের বিধান থাকলেও আব্দুল গনির দুটি তৃতীয় বিভাগে বহাল তবিয়তে চাকরী করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুল গনি বিধি বর্হিভুতভাবে প্রতিষ্ঠানের এবতেদায়ী শাখার কনিষ্ঠ মওলানা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাহফুজুর রহমানকে ২০২০ সালে দাখিল শাখায় জ্যেষ্ঠ মওলানা পদে পদায়ন করান। প্রাপ্যতা না থাকায় তাঁকে শরীর চর্চা শিক্ষক পদে বেতন-ভাতা পাইয়ে দেন। কিন্তু সে পদে পুর্ব থেকেই একজন নিয়োগপ্রাপ্ত ও সরকারী বেতনভুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে সেই মাহফুজুর রহমানের শরীর চর্চা পদবী সংশোধনের সুপারিশ করে সহকারী শিক্ষক পদে বেতন পাইয়ে দেন। সেটিও প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধি ও বিন্যাস (প্যাটার্ন) বর্হিভুতহওয়ার কারনে ওই পদেরও সংশোধন করে জ্যেষ্ঠ মওলানা পদে বেতনের প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার একাধীক শিক্ষক জানান,ভারপ্রাপ্ত সুপারের আর্থিকসহ নানা অনিয়ম,শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরনের কারনে তিনি বিতর্কিত। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে শিক্ষক/কর্মচারীগণ সুপারের বিরুদ্ধে সভাপতি বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা বলেন,তিনি অস্থায়ী (এডহক) কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের ভবন বিক্রি কিংবা জমি লিজ রাখার কোন সিদ্ধান্ত দেননি। প্রতিষ্টান প্রধান কোন অনিয়ম করে থাকলে দায় ভার তার ওপরই বর্তাবে।
অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনের তথ্য নিশ্চিত করে মাদরাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি বলেন, তিনি যা কিছু করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেছেন। ভবন ভাঙ্গে বিক্রি ও জমি কট রাখার বিষয়ে পুর্ববর্তী পরিচালনা কমিটির অনুমোদন নেয়া হয়েছিল দাবী করে তিনি আরো জানান, নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার পর পুরাতন ভবন ভাঙা হয়েছে। জমি লিজের টাকায় মাদরাসার জায়গা কেনা হয়েছে। তবে এসবের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন,-“অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও এবং তিনি সরোজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির আর্থিক অনিয়মের তথ্য পেয়েছেন। তাঁকে কারন দর্শনোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিধি বর্হিভুত কর্মকান্ডের কারনে তাঁকে দর্শনোর নোটিশ প্রদান এবং ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। শোকজের জবাবের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa