ঢাকা
২৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
গুরুদাসপুরে সাত ইঞ্চি জমির দাবীতে দুই মামলা-হয়রানীর অভিযোগ তথ্যবিভ্রাট সংবাদের প্রতিবাদে ডা.জাহেদুলের সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নেতাকে দায়মুক্ত করতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে আগুনে পুড়লো পেট্রোল পাম্প,দোকান ও বসতবাড়ি সংগঠন গতিশীল না থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয় কঠিন হবে-সোহাগ গুরুদাসপুর পৌরসভার ৪৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা “দল সুসংঘটিত থাকলে বারবার সরকার ক্ষমতায় আসবে”-সোহাগ ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে তরুণদের ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের হতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলো ছড়াচ্ছে ‘আল মদিনা’ পাঠাগার
Advertise with us

গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২   ৯৯০ বার পঠিত
গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি

গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি  

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার অন্যতম বড় পশুর হাট চাঁচকৈড় এ ৩টি ষাড় গরু বিক্রি করতে এনেছেন পৌরসদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খামারী রমিজ সর্দার। তিনি বলেন,প্রতিটি গরুর গড় ওজন ৯ মণ। প্রতিটির দাম হাঁকছেন তিনি ৩ লাখ টাকা করে। কিন্তু ক্রেতা কাঙ্খিত দাম না বলায় এখন বিক্রি করতে পারেননি তিনি। খড়,ভুষি,খুদ,খৈইলসহ পশুখাদ্যের সব উপাদানের দাম বেশি। করোনার কারনে গত দুবছর লোকসান গুনতে হয়েছিলো তাঁকে। এতে ঋনগ্রস্থও হয়েছেন তিনি। ঋনের চাপ ও ফিবছরের লোকসান সামাল দিতে এ বছর ধার-দেনা করে ৩টি ষাড় গরু সন্তানের মতো করে লালন-পালন করলেও কাঙিত দামে হতাশ তিনি। রমিজ সর্দার জানালেন প্রতিবছর লোকসান হলে আর গরু লালন-পালন করবো না। শুধু তিনি নন এমন মন্তব্য হাটে গরু নিয়ে আসা অধিকাংশ খামারীর।

ঈদুল আজহার বাকী মাত্র ক’দিন। ঈদকে সামনে রেখে নাটোরের গুরুদাসপুরের হাটগুলোতে অঢেল পশুর সমাগম হলেও বেচাকেনায় মন্থরগতী লক্ষ্য করা গেছে। ফলে হতাশায় ভুগছেন বিক্রেতা ও হাটের ইজারাদারা। বিক্রেতারা বলছেন,‘দুই বছর করোনার পর এবার গো-খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বেশি। পশুপালনে খরচও বেড়েছে বেশ। কিন্তু দাম ও কেনাবেচায় ভাটা। লোকসানের শঙ্কায় বিক্রেতা খামারীরা।

সরোজমিনে মঙ্গলবার (২৮জুন) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার অন্যতম পশুর হাট চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা গেছে,ঈদকে ঘিরে পশুহাট নতুন করে সাজানো হয়েছে। রোদ থেকে বাঁচতে পশুসহ কেনা-বেচা আরামদায়ক করতে মাথার ওপর কাপড়ের চাঁদোয়া টাঙ্গানো হয়েছে। সাড়িবদ্ধ বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন আকৃতি ও রঙের ষাড় গরু। কেনা বেচা নিররাপদ ও জাল টাকা রোধে পুলিশী টহলও লক্ষ্য করা গেছে। হাটে পশুর সুস্থ্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় গরুর ব্যাপারী আলাল প্রামানিক বলেন, প্রতিবছর কোরবানীর ঈদকে ঘিরে স্থানীয় হাটগুলো থেকে সুলভমুল্যে গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন তিনি। এ বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এর সাথে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। মানুষের হাতে টাকা পয়সা কম। লোকসানের শঙ্কায় তিনি গরু কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। এখনও সময় আছে দেখেশুনে একগাড়ি (ট্রাক) গরু কিনবেন তিনি।

কুমিল্লা থেকে আসা ব্যাপারী রশিদ বলেন,-‘গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পালনকারীরা গরুর দাম বেশি হাঁকছেন। লোকসানের শঙ্কায় এখনও গরু কেনা হয়নি। ঈদের বেশ ক’দিন বাঁকি এতো আগে কিনে পালন করাও কষ্টকর।

হাটের ইজারাদার আনিছুর রহমান মোল্লা বলেন,‘এ হাটের টোল সহনীয়। দুরবর্তী এলাকার পাইকারদের থাকা ও খাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন তারা। তিনি বলেন,হাটে পশুর সমাগম যথেষ্ট। কিন্তু বেঁচাকেনা কম। ছোট ও মাঝারি মানের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। বড় গরু কেনার ক্রেতা কম। গোখাদ্যের দাম বেশি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পশুর চাহিদা ও দাম দুটোই কম।

উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলায় এবছর ৮৫ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। যার বাজার মুল্য প্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উপরে। উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৩৬ হাজার ৬৫২টি পশুর। চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৪৮ হাজার পশু অন্যত্র বিক্রি করতে পারবেন খামারিরা। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীরা লোকসানের শঙ্কায় থাকলেও পশুর ভালোদামে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa