ঢাকা
২৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
গুরুদাসপুরে সাত ইঞ্চি জমির দাবীতে দুই মামলা-হয়রানীর অভিযোগ তথ্যবিভ্রাট সংবাদের প্রতিবাদে ডা.জাহেদুলের সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নেতাকে দায়মুক্ত করতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন গুরুদাসপুরে আগুনে পুড়লো পেট্রোল পাম্প,দোকান ও বসতবাড়ি সংগঠন গতিশীল না থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয় কঠিন হবে-সোহাগ গুরুদাসপুর পৌরসভার ৪৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা “দল সুসংঘটিত থাকলে বারবার সরকার ক্ষমতায় আসবে”-সোহাগ ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে তরুণদের ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের হতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলো ছড়াচ্ছে ‘আল মদিনা’ পাঠাগার
Advertise with us

গুরুদাসপুরে ভালো নেই বিলুপ্তপ্রায় বাঁশ শিল্পের কারিগররা

অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২   ২৫৭ বার পঠিত
গুরুদাসপুরে ভালো নেই বিলুপ্তপ্রায় বাঁশ শিল্পের কারিগররা

সংসারের প্রয়োজনে পুরুষের পাশাপশি নারীরাও বাশেঁর উপকরন তৈরীতে ব্যস্ত ছবি গুরুদাসপুর বার্তা  

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে গ্রামীণ বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। এক সময় এ জনপদের মানুষ ঘরগৃহস্থালি,কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করলেও এখন এ শিল্পটি মৃত প্রায়। বাঁশের দাম বৃদ্ধি,তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ার কারনে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বুধবার (৩ আগষ্ট) দুপর ১ টার দিকে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর কালী নগর গ্রামে সরোজমিনে দিয়ে দেখা গেছে,একটি ঘরে দলবদ্ধভাবে ওই গ্রামের কল্যানী রানী,প্রার্থনা রানী,পুর্নিমা রানী,প্রদীপ চন্দ্র তরনী দাস,তাপস চন্দ্র,মিনতি রানীসহ অন্তত ১০ জন নারী ও পুরুষ কাজ করছেন। তাঁরা কুলা, হাত পাখা,ঝাঁকা,চালুন,টোপাসহ ঘরগৃহস্থালী পন্য তৈরী করছেন।

             

একসময় এ গ্রামের প্রায় বাড়িতে এ শিল্পের কারিগররা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধী উপকরন তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করলেও এখন তেমন একটা চোখে পরে না। প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিক জীবনধারায় কমেছে বাঁশ শিল্পের ব্যবহার। স্বল্প আয়ে কারিগররা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে পূর্বপুরুষের আদি পেশা বদল করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এ পেশার সাথে জড়িত প্রদীপ চন্দ্র তরনী দাস বলেন,এটা তাদের পৈত্রিক পেশা। ক’বছর আগেও গ্রামের ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার এ পেশার সাথে যুক্ত ছিলো। এখন ১৫/১৬টি পরিবার এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। ২শ টাকায় কেনা বাঁশের সাথে সুতা,রং,লোহার তারসহ অন্যান্য উপকরণ খরচ ৫০ টাকা যোগ করে একজন শ্রমিক ২ দিনের পরিশ্রমে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার পন্য তৈরী করতে পারেন। খরচ বাদে প্রতিদিন পারিশ্রমিক থাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এ আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন বলেও জানান তিনি।
পুর্নিমা রানী বলেন,তাঁর ৩ ছেলে ১ মেয়ে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করে। স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য তিনি এ শিল্প কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন নিয়ে কষ্টে এ পেশা টিকিয়ে রেখেছেন বলেও জানান। তার মতো সবার দাবী সরকারী সহযোগীতা ছাড়া এ পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী বলেন,বাঁশ দিয়ে তৈরী উপকরনের নায্য দাম নিশ্চিত করন,সরকারী সহযোগীতাই পারে রুগ্ন মৃত্যপ্রায় এ শিল্পকে বাঁচাতে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারী আর্থিক সহযোগীতা ও বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতা আহবান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তমাল হোসেন জানান,বাঁশ শিল্প গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কুটির শিল্প। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগীতা করা হবে।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa