ঢাকা
১৬ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

ফুঁসছে গুরুদাসপুরের সংবাদকর্মীরা

অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ
মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২   ২৪৪ বার পঠিত
ফুঁসছে গুরুদাসপুরের সংবাদকর্মীরা

নাটোরের গুরুদাসপুরে পুর্বনোটিশ ছাড়াই বিয়াঘাট “ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বন্ধ থাকায় সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি” শিরোনামে গত সোমবার একটি বেসরকারী টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। অপরাধ ঢাকতে ওইদিন বিকেলেই ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টরা পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ওই সংবাদকর্মীদের বিষদগার ও ব্যক্তিগত জীবনচরিত নিয়ে কুরুচিপুর্ন বক্তব্য নিয়ে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সুজা ও সংশ্লিষ্টদের সংবাদ সম্মেলনে স্বীকৃত কোন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলো না।  সেখানে চেয়ারম্যান ছাড়াও সচিব জালাল উদ্দিন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম, গ্রাম পুলিশ বাবলু, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ একজন ইউপি সদস্য বক্তব্য রাখেন।


সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সুজা বলেন, ইউনিয়নের সুনাম ক্ষুন্ন করতে ওই সাংবাদিকরা মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাছাড়াও সাংবাদিকরা কত টাকা বেতন পান,কেন তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা? ‘কলেজ শিক্ষিকা বিয়ে করলেন ছাত্রকে’ তার (সাংবাদিকের) পরিবেশিত সংবাদের কারনে শিক্ষিকার আত্মহত্যাসহ নানা কুরুচিপুর্ন কথা বলেছেন। ওই সাংবাদিককে বিষদগার ও ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে চেয়ারম্যানের কুরুচিপুর্ন বক্তব্যে গুরুদাসপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের উপজেলা সংবাদদাতা নাজমুল হাসান জানান, যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিক্তিতে সংবাদ পরিবেশন হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছিলেন পরিষদের সচিব ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা ছুটিতে আছেন। আর তিনিও কারণবসত পরিষদে যেতে পারেননি। তাই পরিষদ বন্ধ ছিলো। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভিন্ন কথা বলে আমার ব্যাক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন।
নাজমুল আরও জানান, অনেকে তার অফিসে সংবাদটি বন্ধ করার জন্য এসেছিলেন, তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। অনিয়ম হলে সংবাদ হবে। হুমকি কিংবা কুৎসা রটিয়ে মুলধারার সাংবাদিকদের পথ রোধ করা যাবে না।
গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি মাজেম আলী বলেন,নিজের অপরাধ ঢাকতে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। জনপ্রতিনিধির কাছে এমন আচরন তারা আশা করেন না। বিষয়টি মোটেও ঠিক হয়নি।
অপরাধ ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন ও সাংবাদিকের নামে বিষদগার বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের মুঠো ফোনে ..৩৩১৫ নম্বরে বেশ ক’বার (৩.১৫ থেকে ৩.২২ মিনিট) ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে নাটোর স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাদিম সারওয়ার জানান, একজন জনপ্রতিনিধির এতো প্রতিক্রিয়া দেখানো মোটেও ঠিক হয়নি। আমি তার সাথে কথা বলবো। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়টা দেখবো।

SHARE NOW
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Archive Calendar
Su Mo Tu We Th Fr Sa