সংসারের প্রয়োজনে পুরুষের পাশাপশি নারীরাও বাশেঁর উপকরন তৈরীতে ব্যস্ত ছবি গুরুদাসপুর বার্তা
নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে গ্রামীণ বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। এক সময় এ জনপদের মানুষ ঘরগৃহস্থালি,কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করলেও এখন এ শিল্পটি মৃত প্রায়। বাঁশের দাম বৃদ্ধি,তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ার কারনে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বুধবার (৩ আগষ্ট) দুপর ১ টার দিকে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর কালী নগর গ্রামে সরোজমিনে দিয়ে দেখা গেছে,একটি ঘরে দলবদ্ধভাবে ওই গ্রামের কল্যানী রানী,প্রার্থনা রানী,পুর্নিমা রানী,প্রদীপ চন্দ্র তরনী দাস,তাপস চন্দ্র,মিনতি রানীসহ অন্তত ১০ জন নারী ও পুরুষ কাজ করছেন। তাঁরা কুলা, হাত পাখা,ঝাঁকা,চালুন,টোপাসহ ঘরগৃহস্থালী পন্য তৈরী করছেন।
![]()
একসময় এ গ্রামের প্রায় বাড়িতে এ শিল্পের কারিগররা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধী উপকরন তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করলেও এখন তেমন একটা চোখে পরে না। প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিক জীবনধারায় কমেছে বাঁশ শিল্পের ব্যবহার। স্বল্প আয়ে কারিগররা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে পূর্বপুরুষের আদি পেশা বদল করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এ পেশার সাথে জড়িত প্রদীপ চন্দ্র তরনী দাস বলেন,এটা তাদের পৈত্রিক পেশা। ক’বছর আগেও গ্রামের ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার এ পেশার সাথে যুক্ত ছিলো। এখন ১৫/১৬টি পরিবার এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। ২শ টাকায় কেনা বাঁশের সাথে সুতা,রং,লোহার তারসহ অন্যান্য উপকরণ খরচ ৫০ টাকা যোগ করে একজন শ্রমিক ২ দিনের পরিশ্রমে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার পন্য তৈরী করতে পারেন। খরচ বাদে প্রতিদিন পারিশ্রমিক থাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এ আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন বলেও জানান তিনি।
পুর্নিমা রানী বলেন,তাঁর ৩ ছেলে ১ মেয়ে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করে। স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য তিনি এ শিল্প কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন নিয়ে কষ্টে এ পেশা টিকিয়ে রেখেছেন বলেও জানান। তার মতো সবার দাবী সরকারী সহযোগীতা ছাড়া এ পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী বলেন,বাঁশ দিয়ে তৈরী উপকরনের নায্য দাম নিশ্চিত করন,সরকারী সহযোগীতাই পারে রুগ্ন মৃত্যপ্রায় এ শিল্পকে বাঁচাতে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারী আর্থিক সহযোগীতা ও বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতা আহবান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তমাল হোসেন জানান,বাঁশ শিল্প গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কুটির শিল্প। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগীতা করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ৭:২১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২
gurudaspurbarta.com | MD. Faruk Hossain
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ||
| ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১ | |
| ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ |
| ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ |
| ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | |||