সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

কচুগাড়ী বিলে নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

কচুগাড়ী বিলে নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল

বাহারী নৌকায় বাজছে ডাঙ্কার (বড় আকৃতির ঢোল) গুরুম গুরুম বাজনা। বাদ্য যন্ত্রের তালে তালমিলিয়ে চলছে মাঝি-মাল্লাদের বৈঠা আর সমবেত জারি আর সারি গান। বিলে নৌকা নিয়ে আর বিলপাড়ে দাঁড়িয়ে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের উৎসুক দর্শনার্থীদের হৈ হুল্লোর,হর্ষ ধ্বনী,করতালী আর নেচে গেয়ে উল্লাস করে বাইচে অংশ নেয়া প্রতিযোগিদের উৎসাহ দেয়া। এভাবেই শেষ হয়েছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা।

oppo_0

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধারাবারিষার পাশে কচুগাড়ী বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রতিযোগীতা শেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়

কচুগাড়ী গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় নানা রঙে রঙির বাহারী নামে ৮টি নৌকা অংশ নেয়। বড় আকৃতির নৌকা (ক শ্রেনী) শ্রেনীতে ছিলো ফাতেমা পরিবহন,সোনার তরী,আরিফ এক্সপ্রেস। ছোট আকৃতির নৌকা (খ শ্রেনী) শ্রেনীতে অংশ নেয় গঙা মায়ের তরী,নয়ন এক্সপ্রেস,মিথিলা এক্সপ্রেস,স্বাধীন পরিবহন,ও মিলন এক্সপ্রেস।

প্রতিযোগিতা শেষে মজনু মোঃ ইসাহক আলী মাষ্টারের সভাপতিত্ব বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ক শ্রেনীতে প্রথম স্থান অর্জনকারী ফাতেমা পরিবহন ও খ শ্রেনীতে মিথিলা এক্সপ্রেসের দলনেতার হাতে রঙিন টিভি,দ্বিতীয় স্থান লাভকারীদের দলে মোবাইল ফোন ও তৃতীয় স্থান লাভকারীদের হাতে পুরস্কার হিসাবে প্রেসার কুকার তুলে দেয়া হয়।এসময় আয়োজকদের মধ্যে হাসানুজ্জামান জয়,সাফিউল্লাহ তোতা, মাহমুদুল হক খোকন,তাইজুল ইসলাম,বিদ্যুৎ প্রমুখ উপস্তিত ছিলেন।

কাছিকাটা গ্রামের আয়ুব আলী বলেন, নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার হারাতে বসা ঐতিহ্য। একসময় গ্রামের মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিলো নৌকা বাইচ। কচুগাড়ী বিলে নৌকা বাইচের খবর শুনে এসেছি। প্রতিযোগীতা দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি। আমার অসাধারণ একটি সময় কেটেছে।

কচুগাড়ী গ্রামের কহিনুর বেগম জানান, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে বাড়ি বাড়ি যেমন মেহমান আসে ঠিক তেমনি নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আত্মীয়-স্বজন এসেছে। সবাই মিলে নৌকা বাইচ দেখে মজা পেয়েছি।

আয়োজক কমিটির পক্ষে মাহমুদুল হক খোকন বলেন, হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য মানুষকে সুস্থ বিনোদন দেয়। আয়োজন ঘিরে এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। নতুন প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য দেখতে পেয়ে আনন্দিত। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ৩:১৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com