সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

স্কুল প্রতিষ্ঠায় জমিদান করেও প্রতারিত দু’বোন

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ

১৫ মার্চ ২০২৬ ৮:০১ অপরাহ্ণ

স্কুল প্রতিষ্ঠায় জমিদান করেও প্রতারিত দু’বোন

নাটোরের গুরুদাসপুরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে নিলেও জমিদাতার দুই মেয়েকে চাকরি দেওয়া হয়নি। উপজেলার নাজিরপুর দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত করে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুন। এসময় ফেরদৌসীর পিতা কোবাদ আলী, সুমাইয়ার পিতা বদর আলীসসহ মুক্তার আহমেদ ও জয়নুল আবেদীন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় কোবাদ আলী ও তার ছোটভাই বদর আলী নামের দুই ব্যাক্তির কাছ থেকে তাদের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুনকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৩৭ শতক জমি রেজিষ্ট্র করে নেন কমিটির লোকজন। কমিটির সভাপতি ছিলেন মোবারক হোসেন। এরপর ওই দুই বোনকে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারী নিয়োগপত্র দিলে তারা নিয়ম মেনে শিক্ষকতা শুরু করেন।
এরপর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পরিবর্তন হলে ২০১২ সালের ৬ মার্র্চ জোরপূর্বক দখলে থাকা বর্তমান প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে ১৩ মার্চ ২০১২ সালে নিয়োগ দেখানো হয়। এরপর ফেরদৌসী ও সুমাইয়াকে মারধর করে স্কুল থেকে বের করে দেন জিয়াউর ও রিতার আত্মীয় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আদরী খাতুন ও তার সহযোগিরা।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও ফল পাননি দুইবোন। তদন্তপূূর্বক নিয়ম বহির্ভুতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে বহিস্কার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুনসহ তার পরিবার।
স্থানীয় মুক্তার আহম্মেদ ও জয়নুল আবেদীন বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ষড়যন্ত্রের শিকার তারা। ২০১৮ সালে শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষা অধিদপ্তরে দুইবোনকে বাদ দিয়ে জিয়া ও রিতার নামে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বেতন প্রদানের তালিকা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে হাইকোর্ট ও জেলা কোর্টে রিট করে জিয়াউর ও রিতার বেতনের ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আনা হয়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম শাহীন বলেন, ভুক্তভোগীদের দাবি আইনসম্মত হলে তাদের চাকরিতে পুুনর্বহাল করা হোক।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান বলেন, তাদের কোনো অভিযোগই সত্য নয়। ২০২০ সালে ঢাকা থেকে তদন্ত টিম এসেছিল। তখন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারা মূলতঃ পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের বিরোধীতা করে হেনস্তা করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জনাব আলী বলেন, কোনোপক্ষের নিয়োগের কাগজপত্র আমার অফিসে নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিয়া ও রিতাকে বেতন ভাতা দেয়ার চিঠি দিলেও কাগজপত্র না থাকায় আমি তা আমলে নেইনি।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ৮:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com