সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ

২৮ জুন ২০২২ ২:৫৫ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি

গুরুদাসপুরে হাটগুলোতে পশু আমদানী বাড়লেও বেচাকেনায় ধীরগতি

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার অন্যতম বড় পশুর হাট চাঁচকৈড় এ ৩টি ষাড় গরু বিক্রি করতে এনেছেন পৌরসদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খামারী রমিজ সর্দার। তিনি বলেন,প্রতিটি গরুর গড় ওজন ৯ মণ। প্রতিটির দাম হাঁকছেন তিনি ৩ লাখ টাকা করে। কিন্তু ক্রেতা কাঙ্খিত দাম না বলায় এখন বিক্রি করতে পারেননি তিনি। খড়,ভুষি,খুদ,খৈইলসহ পশুখাদ্যের সব উপাদানের দাম বেশি। করোনার কারনে গত দুবছর লোকসান গুনতে হয়েছিলো তাঁকে। এতে ঋনগ্রস্থও হয়েছেন তিনি। ঋনের চাপ ও ফিবছরের লোকসান সামাল দিতে এ বছর ধার-দেনা করে ৩টি ষাড় গরু সন্তানের মতো করে লালন-পালন করলেও কাঙিত দামে হতাশ তিনি। রমিজ সর্দার জানালেন প্রতিবছর লোকসান হলে আর গরু লালন-পালন করবো না। শুধু তিনি নন এমন মন্তব্য হাটে গরু নিয়ে আসা অধিকাংশ খামারীর।

ঈদুল আজহার বাকী মাত্র ক’দিন। ঈদকে সামনে রেখে নাটোরের গুরুদাসপুরের হাটগুলোতে অঢেল পশুর সমাগম হলেও বেচাকেনায় মন্থরগতী লক্ষ্য করা গেছে। ফলে হতাশায় ভুগছেন বিক্রেতা ও হাটের ইজারাদারা। বিক্রেতারা বলছেন,‘দুই বছর করোনার পর এবার গো-খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বেশি। পশুপালনে খরচও বেড়েছে বেশ। কিন্তু দাম ও কেনাবেচায় ভাটা। লোকসানের শঙ্কায় বিক্রেতা খামারীরা।

সরোজমিনে মঙ্গলবার (২৮জুন) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার অন্যতম পশুর হাট চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা গেছে,ঈদকে ঘিরে পশুহাট নতুন করে সাজানো হয়েছে। রোদ থেকে বাঁচতে পশুসহ কেনা-বেচা আরামদায়ক করতে মাথার ওপর কাপড়ের চাঁদোয়া টাঙ্গানো হয়েছে। সাড়িবদ্ধ বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন আকৃতি ও রঙের ষাড় গরু। কেনা বেচা নিররাপদ ও জাল টাকা রোধে পুলিশী টহলও লক্ষ্য করা গেছে। হাটে পশুর সুস্থ্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় গরুর ব্যাপারী আলাল প্রামানিক বলেন, প্রতিবছর কোরবানীর ঈদকে ঘিরে স্থানীয় হাটগুলো থেকে সুলভমুল্যে গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন তিনি। এ বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এর সাথে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। মানুষের হাতে টাকা পয়সা কম। লোকসানের শঙ্কায় তিনি গরু কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। এখনও সময় আছে দেখেশুনে একগাড়ি (ট্রাক) গরু কিনবেন তিনি।

কুমিল্লা থেকে আসা ব্যাপারী রশিদ বলেন,-‘গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পালনকারীরা গরুর দাম বেশি হাঁকছেন। লোকসানের শঙ্কায় এখনও গরু কেনা হয়নি। ঈদের বেশ ক’দিন বাঁকি এতো আগে কিনে পালন করাও কষ্টকর।

হাটের ইজারাদার আনিছুর রহমান মোল্লা বলেন,‘এ হাটের টোল সহনীয়। দুরবর্তী এলাকার পাইকারদের থাকা ও খাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন তারা। তিনি বলেন,হাটে পশুর সমাগম যথেষ্ট। কিন্তু বেঁচাকেনা কম। ছোট ও মাঝারি মানের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। বড় গরু কেনার ক্রেতা কম। গোখাদ্যের দাম বেশি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পশুর চাহিদা ও দাম দুটোই কম।

উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলায় এবছর ৮৫ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। যার বাজার মুল্য প্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উপরে। উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৩৬ হাজার ৬৫২টি পশুর। চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৪৮ হাজার পশু অন্যত্র বিক্রি করতে পারবেন খামারিরা। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীরা লোকসানের শঙ্কায় থাকলেও পশুর ভালোদামে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ২:৫৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com