সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

গুরুদাসপুরে শিক্ষকদের চাপে গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা-ঘুষের অভিযোগ

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ

০৯ জুন ২০২২ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুরে শিক্ষকদের চাপে গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা-ঘুষের অভিযোগ

গুরুদাসপুরে শিক্ষকদের চাপে গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে-ঘুষের অভিযোগ

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রকাশনীর কাছে ঘুষ নেয়া শিক্ষকদের চাপে শিক্ষার্থীরা গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে। নিয়মানুসারে এনসিটিবির অনুমোদিত বই ছাড়া অন্য কোন বই পাঠ্যতালিকাভুক্ত করা যাবে না সেটি অমান্য করে নিষিদ্ধ সহায়ক ও গাইড বই কিনতে বাধ্য করছে কিছু অসাধু শিক্ষক। এর অন্তরালে রয়েছে প্রকাশনীর দেয়া শিক্ষকদের মোটা অংকের ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

অভিভাবক ও শিক্ষাবীদদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অধিকাংশ স্কুলে পাঠ্যতালিকা (বুকলিস্ট) তৈরিতে নিয়ম ভঙ্গ করে ডোনেশন (অনুদান) বা ঘুষ গ্রহন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই বিতরণে সরকারের উদ্দেশ্যে বাদ সাধছে অসাধু ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের একটি চক্র।

বিভিন্ন গাইড বই প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বা আসবাব দিয়ে ম্যানেজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুদাসপুরের অধিকাংশ শিক্ষক মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করে শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করছেন। এর ফলে গাইড বইয়ের মূল্যও চলে গেছে সাধারণ শিক্ষার্থীর নাগালের বাইরে।

গুরুদাসপুরে মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্টান থেকে শিক্ষার্থীদের বাংলা দ্বিতীয়পত্র ব্যাকরন ও ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র গ্রামার সহায়ক বই (নিষিদ্ধ) কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ঠরা তাদের নির্ধারিত প্রকাশনীর নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ(ঘুষ) গ্রহণ করারও অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। আর শিক্ষকদের ঘুষের বলি হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

গুরুদাসপুর পৌরসদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লুৎফর রহমান তাঁর ৯ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত মেয়ের জন্য স্কুল নির্ধারিত বাংলা ব্যকরণ গাইড কিনতে এসেছেন উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকার বিনামূল্যে বই দিলেও স্কুলগুলো গাইড কিনতে বাধ্য করছে। লাইব্রেরী থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে বাংলা ব্যাকরন কিনতে হলে বাধ্যতামুলকভাবে ইংরেজী গ্রামার ও কিনতে হবে। একটি বিক্রি হয় না। দুটি গাইডের মুল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। এতো টাকার গাইড কেনার সামর্থ তার নেই।

গুরুদাসপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,বেগম রোকেয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজ,চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম দশম শ্রেনীর অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে,তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে লেকচার প্রকাশনীর বাংলা ও ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র ব্যাকরন গাইড কিনতে বলা হয়েছে। গাইডের মডেল প্রশ্ন থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হবে বলেও তাদের সংশ্লিষ্ঠ শ্রেনী শিক্ষক জানিয়েছেন। বাধ্য হয়েই তারা গাইড কিনছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, নিয়মনীতি জানিনা,প্রকাশনীর চাকরী করি। তাদের পক্ষে কাজ করতে হয়। শিক্ষকদের সন্তুষ্টি করে হলেও প্রকাশনীর বিক্রি বাড়ানোই লক্ষ্য। সেটা পুরনে পরিশ্রম করতে হয়।

গুরুদাসপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,তাঁর প্রতিষ্ঠানে সরকার প্রদত্ত্ব মুলবই পড়ানো হয়। শিক্ষকদের গাইড কিনতে বাধ্য করার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কোন শিক্ষক নিয়ম বর্হিভুতভাবে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করে থাকলে দায়ভার তার নিজের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,বছরের শুরুতে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যাকরণ বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। আলাদাভাবে বই কেনার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে সরকার নোট-গাইড কিংবা সহায়ক বই নিষিদ্ধ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কিনতে উদ্বুদ্ধ করলে হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোন শিক্ষকের অনৈতিক কাজের সাথে সংশ্লিষ্ঠতার প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয় :
Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ১:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুন ২০২২

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com