বুধবার ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

হাজেরা ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার..

১৭ মে ২০২৩ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

হাজেরা ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

সরকারি বিধিমোতাবেক ১০ শয্যার একটি ক্লিনিকে ৩জন মেডিকেল অফিসার,একজন সার্বক্ষণিক আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং ৬ জন প্রশিক্ষিত (ডিপ্লোমা) সেবিকা (নার্স) থাকার কথা থাকলেও এর কোন শর্তপুরণ না করেই চলছে গুরুদাসপুরের কাচারী পাড়ায় অবস্থিত হাজেরা ক্লিনিক। মাঝে মধ্যে ভুল চিকিৎসা,অব্যবস্থাপনা,চিকিৎসকের অভাবসহ নানাবিধ করনে রোগীর মৃত্যু হলেও অদৃশ্য কারনে বন্ধ হয়না ক্লিনিক তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

জানাগেছে, গুরুদাসপুর পৌর সদরের হাজেরা ক্লিনিকে রোববার মধ্যরাতে শম্পা বেগম (২৮) নামের এক প্রসুতি রোগী ভর্তি হন। সোমবার(১৫ মে) সকাল ৭ টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে শিশুটি মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দ্রুত সোমবারই শিশুটিকে দাফনের ব্যবস্থা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। শম্পা বেগম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রসূতির মামী আফরোজা বেগম ও দেবর আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, সোমবার ভোরে খবর আসে শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন। খবর পেয়ে তারা ক্লিনিকে ছুটে গেলে সেখানকার সেবিকারা শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। এ সময় ওই ক্লিনিকে কোন চিকিৎসক ছিলো না। একজন সেবিকা অক্সিজেন খুলে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে শিশুটির হয়তো এমন করুণ মৃত্যু হতো না। তারা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় শিশু মৃত্যুর বিষয়ে শাস্তি দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে জানান,মাঝে মধ্যেই হাজেরা ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর খবর শুনি। কিন্তু অদৃশ্য কারনে সবকিছুই রাতের আঁধারে ম্যানেজ হয়। কোন অদৃশ্য কারনে যে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকেন,কেন ক্লিনিক বন্ধ হয়না সেটা তাদের বোধগোম্য নয়।

প্রসুতি রোগীর সিজার করেন তাড়াশ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম সোহেল। তিনি ক্লিনিকের চিকিৎসক না থাকার কথা স্বীকার করে জানান, সুস্থ্য শিশুর জন্ম হয়েছিল। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুটি মারা যেতে পারে।

হাজেরা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, হাজেরা ক্লিনিকে আপাতত আবাসিক মেডিকেল অফিসার নেই। তিনি এবং তার ভাই চিকিৎসক সোহেল ও এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক বাহাউদ্দিন মিলেই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। নবজাতক মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন,সোমবার সকালে চিকিৎসক না থাকলেও সেবীকাদের (নার্স) মোবাইলফোনে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক সোহেল। সেই চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছিল নবজাতকটিকে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, হাজেরা ক্লিনিকে শিশু মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। ওই ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্স না থাকলে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাটোরের সিভিল সার্জন মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকা কিংবা অব্যবস্থাপনায় রোগীর মৃত্যুর বিষয় দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য-আমিনুল ইসলাম সোহেল তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এরআগে একই ক্লিনিকে হার্নিয়া অপারেশনে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে সেসময় তিনি বিভাগীয় শাস্তির আওতায় ছিলেন। অপর দিকে তার ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম সাগর ক্লিনিকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন,সে দাবী ও তার চিকিৎসাসেবা দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ৩:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ মে ২০২৩

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com