নাটোরের গুরুদাসপুরে হেরিংবন্ড রাস্তা নির্মাণের একমাসেই অনেকস্থান ধ্বসে গেছে। দুইধাপে এডিপি ও এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ২৭৯ মিটার রাস্তা নির্মান করা হয়। ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকায় নির্মিত রাস্তায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও বিধি অনুসরণ না করায় অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে।
![]()
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চিৎলাপাড়া গ্রামীণ রাস্তায় ওই কাজ দুটি করা হয়। দুই ধাপে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচী) ও এলজিএসপি (লোকাল গভর্নেন্স সার্পোট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ২৭৯ মিটার রাস্তা নির্মান করা হয়। গত জুন মাসে এডিপি প্রকল্পের অধীন ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৭ মিটার হেরিংবন্ড রাস্তা নির্মাণ করা হয়। নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরিফ কন্সট্রাকশন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। একই রাস্তার বাকি ১৭২ মিটার এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় নির্মান করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৮ লাখ ১২ হাজার টাকা। এটি বাস্তবায়ন করেন স্থানীয় গোকুল এন্টারপ্রাইজ। দুটি কাজেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়মানুসারে কাজ না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে ইট ব্যবহার না করে ইটের ওপর বালির আস্তরণ বিছিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন। ইটের নিচে ও মাঝে বালি দেয়া হয়নি। রাস্তার পাশে মাটি কম দেয়ায় বিভিন্নস্থান দেবে ও ধ্বসে গেছে। হাঁটাচলার সময় ইটগুলো নরবড় করছে। পাশর্^ এজিংও বিভিন্নস্থানে ধ্বসে গেছে।
স্থানীয় নুর আমিন, মুন্নাফ, সিদ্দিক মোল্লাসহ অন্তত ১০জন জানান, দীর্ঘদিন পর কাঁচা রাস্তাটি পাকা হয়েছে। নির্মান কাজে নিম্নমানের উপকরন ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসী বাধা দিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অগ্রায্য করে নির্মান কাজ শেষ করেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রলির ভাড়েই দেবে গেছে রাস্তাটি। বালু দিয়ে ইটগুলো ঠিকভাবে বসানো হয়নি। ফলে ভারি যানচলাচল দুরে কথা পায়ে হাটলেই ইটগুলো নড়াচরা করছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মূলত ধারাবারিষা ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান ওই রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাগজে কলমে সভাপতি হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন নিজের প্রায় সকল কাজকর্ম করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, রাস্তাটি নির্মাণে নিম্নমানের ইট বালু ব্যবহার করা হয়নি। তার তত্ত্বাবধানে কাজ হয়নি। নির্মান কমিটি কাজ দেখভাল করেছে।
ঠিকাদার কামরুজ্জামান বলেন, রাস্তা নির্মান কাজ বিধি অনুসরণ করেই শেষ করা হয়েছে। একটু ঊনিশ-বিশ হতে পারে। রাস্তা ভেঙে বা দেবে গিয়ে থাকলে তা মেরামত করে দেয়া হবে।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, এলজিএসপি প্রকল্পের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই। তবে এডিপি প্রকল্পে অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
gurudaspurbarta.com | MD. Faruk Hossain
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ||
| ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১ | |
| ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ |
| ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ |
| ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | |||