বুধবার ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ২নম্বর বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুস্থ্য নারী শেফালী বেগমের নামে ২০২১-২২ অর্থ বছরে বরাদ্দ হওয়া দুস্থ্য মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচির (ভিজিডি) কার্ডেও চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য মোঃ বেলাল হোসেনের নামে। এ ঘটনায় ভুক্তভুগী নারী গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মোঃ সাহেব আলী। সংসারে অভাব অনটনের কারণে স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের কাছে একটি ভিজিডি কার্ডের জন্য অনুরোধ করেন। ইউপি সদস্য তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে নেন। কিছুদিন পরে ভিজিডি কার্ড তার নামে হয়েছে কিনা জানতে চান ইউপি সদস্যের কাছে। তাকে ইউপি সদস্য জানান তার নামে ভিজিডি কার্ড হয়নি। এরপরে ভিজিডি কার্ডের বিষয়ে আর কোন খোঁজ খবর নেননি তিনি।

গত (বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর) দশ টাকা কেজি চাউলের কার্ড নবায়ণ করতে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদে যান তার স্বামী সাহেব আলী। সেখানে গিয়ে দেখেন তার দশটাকা কেজি চাউলের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পরিষদ থেকে বলা হয় একই পরিবারে দুইটি কার্ড থাকলে একটি বাতিল হবে। তখন তার স্বামী জানতে চান তাদের নামে তো শুধু একটি কার্ড রয়েছে। তাহলে আরেকটি কার্ড কিসের। কর্তপক্ষ তখন জানান আমার নামেও ভিজিডি কার্ড রয়েছে। কিন্তু ওই ভিজিডি কার্ডের বিষয়ে তারা কিছুই জানেননা। দীর্ঘ ২১ মাস যাবৎ তার নামে বরাদ্দকৃত ভিজিডি কার্ডের চাউল ইউপি সদস্য বেলাল গোপণে উত্তোলন করে আসছে।

শেফালী বেগমের স্বামী সাহেব আলী জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত চাল তুলে নিয়েছেন। কারণ ভিজিডি কার্ড করার জন্য তাকেই বলা হয়েছিলো। তিনি এর সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং সম্পুন্ন চাউল ফেরৎ চান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ বেলাল হোসেন জানালেন, ভিজিডি কার্ড চেয়ারম্যান নিজে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। ইউপি সচিব আব্দুল হান্নান বলেন, আমি মাত্র কয়েকদিন আগে এখানে যোগদান করেছি।

এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিয়াঘাট ইউপির সাবেক সচিব বর্তমান নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত মোঃ জালাল উদ্দিন জানান,শেফালী বেগমের নামে ভিজিডি কার্ড রয়েছে। তবে কে চাল তুলে নেয় তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেননা।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান সুজা জানান, পরিষদ থেকে এমন ঘটনার কথা শুনেছি। সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গুরুদাসপুর উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেখা মনি পারভিন বলেন, যার নামে কার্ড বরাদ্দ হয়েছে, নীতিমালা অনুসারে তিনিই চাল পাবেন। এক কার্ডের চাল অন্যজন নিতে পারবে না। ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায় বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং মুল কার্ডধারীকে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com