বুধবার ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া-সংস্কৃতি অনুসন্ধানে গুরুদাসপুরে জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট

অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ

০৬ অক্টোবর ২০২২ ৬:৩০ অপরাহ্ণ

বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া-সংস্কৃতি অনুসন্ধানে গুরুদাসপুরে জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট

একসময় ক্রীড়া,সাহিত্য সংস্কৃতির শেকড় ছিলো গ্রামীন জনপদ। গ্রামের অশিক্ষিত-স্বল্প শিক্ষিত কবিয়াল,কবির তৈরী গান,সাহিত্যকর্ম একমুখ থেকে অন্যমুখে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম বয়ে চললেও সংরক্ষনের অভাবে আজ বিলুপ্তির পথে। সেই বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া,সাহিত্য সংস্কৃতি অনুসন্ধান ও সংরক্ষনে নাটোরের গুরুদাসপুরে জাতীয় গনমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পৃষ্ঠ পোষকতায় গ্রামীণ লাঠি খেলার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা তথ্য অফিস,বিটিভি,এফডিসি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকসুত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় গনমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলার খুবজীপুর মরহুম অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ কমপ্লেক্স চত্তরে মনোমুগ্ধকর লাঠি খেলার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুল প্রগতী সংঘ।

নজরুল প্রগতী সংঘের সভাপতি আনিসুজ্জামান সরদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো: মারুফ নেওয়াজ,সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ ইব্রাহিম মোল্লা সুমন, ডক্টর আমিরুল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, নজরুল প্রগতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, জাতীয় এ্যাথলেট-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

গুরুদাসপুর,চাটমোহর ও তাড়াশের বাছাইকৃত ৩০ জন নবীন প্রবীন খেলোয়ার ওই খেলায় অংশ গ্রহণ করেন। এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। কালের ক্রমে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এ প্রাচীন লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সের মানুষ।

ঢাক-ঢোল,ফুলেট বাঁশি আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে চারপাশ উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ্যের তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে লাঠিয়ালরা। তার পর পরই চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। এসব দৃশ্য দেখে আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ যোগায় খেলোয়ারদের।

লাঠিয়াল সর্দার আজাহারআলী,বেল্লাল হোসেন জানান, এ খেলা তাঁদের পূর্ব-পুরুষের। বাড়তি আনন্দ ও বিনোদন জোগাতে আমরা লাঠি খেলা দেখাই। তাদের আনন্দে আমরাও আনন্দিত হই। তিনি সন্তান,নাতিকেও এ খেলা শিখিয়েছেন। তাঁর দাবী পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এ খেলাকে বাঁচিয়ে রাখার।

তৃতীয় শ্রেনী পড়ুয়া শিশু খেলোয়ার আলিফ জানান, সে দাদা আফজাল হোসেনের কাছ থেকে এ খেলা শিখেছে। লাঠি খেলে নিজে আনন্দ পায় অন্যকে আনন্দ দিতে পেরে তার ভালো লাঘে।

জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো: মারুফ নেওয়াজ বলেন,কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া,সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিক। মুলতঃ গ্রামীণ ক্রীড়া ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে তাঁর এ জনপদে এসেছেন। হারানো ক্রীড়া সংস্কৃতি ফেরাতে পারলে মাদক,জঙ্গিবাদ,অপসংস্কৃতি,মোবাইল আসক্তি থেকে তরুন-যুব সমাজকে রক্ষা সম্ভব। বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া সংস্কৃতি রক্ষায় চলমান কার্যক্রমের এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।

উল্লেখ্য রাত ৮ টায় গুরুদাসপুর অঞ্চল থেকে হারাতে বসা জারী ও জাগ গানের আয়োজন করেছে স্থানীয় নজরুল প্রগতী সংঘ। সেখানেও উপস্থিত থাকবেন জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

Facebook Comments Box
SHARE NOW

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২

gurudaspurbarta.com |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement

আক

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 
advertisement

প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন ০১৭১১০৫৫৪৩১

সম্পাদক : অধ্যাপক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ ০১৭১৯৭৯৩০০৩

আইন উপদেষ্টা : এডভোকেট এস এম শহিদুল ইসলাম সোহেল, সুপ্রিমকোর্ট ঢাকা

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়, মুন টেলিকম, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৪০। 01711055431, gurudaspurbarta@gmail.com, gurudaspurbarta@hotmail.com