ইসলাম ধর্মের পবিত্র কাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদ, মা ফাতেমা,মক্কা ও মদিনা শরিফ নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপুর্ন ছবি পোস্টে উত্তাল গুরুদাসপুর। অভিযুক্ত শিমুল কর্মকারের (২৫) গ্রেফতার ও শাস্তি দাবিতে দিনভর ইসলাম ধর্মানুসারী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল,পথসভা,সমাবেশ করেছে। অভিযুক্ত শিমুল নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরশহরের গুরুদাসপুর কর্মকার পাড়ার মৃত নবীন কর্মকারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ওই যুবকের ‘শিমুল’ নামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। পবিত্র কাবা ও মক্কা শরীফের অবয়ব সংবলিত ছবিগুলো বিকৃত করা হয়। অভিযুক্তের পোষ্ট করা ছবিগুলো স্থানীয় মুসলিমদের নজরে আসে। ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে তারা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে থানার সামনে সমবেত হয়।এ ঘটনায় রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবীতে গুরুদাসপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ইসলাম ধর্মের লোকজন। বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলা আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার ব্যানারে মুফতি আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে মডেল মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে থানা শাপলা চত্তরে পথসভায় বক্তব্য রাখেন-মওলানা মুফতি আলী আসগার,উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ওমর আলী শেখ,মুফতি আব্দুল আহাদ,মওলানা আব্দুর মান্নান। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম অভিযুক্তের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার ও প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিতের আশ^াস দিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও ফাসি দাবী করেন।
সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গুরুদাসপুর বাজার, রোকেয়া মোড় হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্তরে শেষ হয়। পরে তাদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে দেখা করে অভিযুক্তের শাশিÍ দাবী করেন।
জানাগেছে, শিমুল ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) সদস্য। বড়ভাই পলাশ কর্মকার ঢাকায় পেট্রোবাংলায় চাকরীর সুবাদে বাবার মৃত্যুর পর শিমুল ও তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। অভিযুক্তের তালাবদ্ধ বাড়িটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ মো. ইমন রহমান বলেন, মুসলিম প্রধান দেশে ইসলাম নিয়ে এই ধরণের অবমাননা মেনে নেওয়া যায়না। ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইসকনের সদস্য ওই যুবক ইসলাম নিয়ে এমন পোষ্ট করেছে। অতীতে তাকে ধর্ম নিয়ে নানা ধরণের কটূক্তিমূলক কথা বলতেও শোনা গেছে। দ্রুত ওই যুবককে আইনের আওতায় আনার দাবি তার।
অভিযুক্ত শিমুল ও তার পরিবারের কোন সদস্যকে না পাওয়ায় কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের শুম্ভু হাওলাদার বলেন, তারা এলাকায় হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করছেন। ইসলাম অবমাননা করে শিমুল নামের ওই যুবকের ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনিও ওই পোস্টের নিন্দা জানাচ্ছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি,বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ইসলাম অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার হবে। ইসলাম ধর্মের লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ৭:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
gurudaspurbarta.com | MD. Faruk Hossain