গুরুদাসপুরে ৩ দিনে চিরকুট লিখে ২ জনের আত্মহত্যা
নাটোরের গুরুদাসপুরে চিরকুট লিখে তিন দিনের ব্যবধানে দুইজন আত্মহত্যা করেছে। তাদের একজন উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পোয়ালশুরা গ্রামের বাসিন্দা অন্যজনের বাড়ি মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে। একজন অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী অন্যজন ব্যবসা প্রতিষ্টানের তত্ত্বাবধায়ক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল মতিন।
জানাগেছে,সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বিবাহিত মরিয়ম খাতুন(১৬)। সে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পোয়ালশুড়া দড়িপাড়া গ্রামের প্রবাসী মোঃ সেলিম প্রামানিকের মেয়ে।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারসুত্রে জানাগেছে, এক বছর আগে পার্শ্ববর্তী সিংড়া থানায় বিয়ে হয় মরিয়মের।এর আগে অন্যত্র বিয়ে হলেও ডিভোর্স হয় মরিয়মের। ৬ মাস ধরে মরিয়ম বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্থ ছিলেন বলেও জানায় তার স্বজনরা।
চিরকুটে মরিয়ম লিখেন-‘আমি আমার জীবন নিয়ে অসন্তষ্ট হয়ে উঠেছি। আমি আমার বাপের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। পরিবারে সুখে দিয়ে যাচ্ছি।’
অপরদিকে গত শুক্রবার (৩ জুন) বেলা ১১ টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্টানে চিরকুট লিখে কীটনাশক সেবন করে আত্মহত্যা করেন হযরত আলী (৬৫) নামের এক ব্যাক্তি। সে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত কলি প্রামানিকের ছেলে। হযরত আলী চাঁচকৈড় বাজারের ধান-চাল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগী আসাদ আলীর ব্যবসা প্রতিষ্টানের তত্ত্বাবধায়ক (ম্যানেজার) ছিলেন।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারসুত্রে জানাগেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ২৯ মে ঠাকুরগাঁও জেলার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে ৯ লাখ টাকার চাল কিনে বাড়ি ফেরার পথে গভীর রাতে হযরত আলীকে ট্রাক ড্রাইভার ও তার সহকারীরা মারধর করে ফেলে দিয়ে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিকপক্ষ হযরত আলীকে অভিযুক্ত করে গালমন্দ ও মারধোর করেন। ক্ষোভে ও অপমান সইতে না পেরে হযরত আলী আত্মহত্যা করেন বলে দাবী পরিবারের।
হযরত আলী মৃত্যুর আগে তার সাবেক মহাজন আয়নাল হক তালুকদারের কাছে একটি চিরকুট লিখে রেখে যান। চিরকুটে লেখা ছিল “বেটা সাইফুল হাজী আমাকে চোর কয়, গালাগালি করে আমাকে চর মারে। আমি তার ক্ষতি করিনি, আমাকে বাঁচতে দিলনা”। তবে হাজী সাইফুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মো. আব্দুল মতিন বলেন, ময়না তদন্ত শেষে মরিয়ম ও হযরত আলীর মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরিয়মের ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হলেও হযরত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ জুন ২০২২
gurudaspurbarta.com | MD. Faruk Hossain
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ||
| ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১ | |
| ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ |
| ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ |
| ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | |||